ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে এক ধরনের সর্বাত্মক ও বহুমাত্রিক সংঘাতের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি ইরানের ইতিহাসে আগের যেকোনো যুদ্ধের তুলনায় বেশিবিপজ্জনক ও জটিল।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংঘাত ১৯৮০–৮৮ সালের ইরাক–ইরান যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। কারণ তখন যুদ্ধের ধরন ছিল স্পষ্ট, কিন্তু এখন চাপ আসছে বহু দিক থেকে—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে।তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র,ইসরায়েল এবং কয়েকটি ইউরোপ–এর দেশ ইরানকে দুর্বল করার জন্য একযোগে কাজ করছে। এসব শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে সামাজিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি দাবি করেন।পেজেশকিয়ানের ভাষায়, ইরাক যুদ্ধের সময় শত্রু কোথা থেকে আঘাত করছে তা বোঝা যেত এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়াও নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে—অর্থনীতি, রাজনীতি ও জনগণের মানসিকতায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে।তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই হামলায় ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহান অঞ্চলের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু হয় এবং শক্তিশালী বাংকার-বাস্টার বোমা ব্যবহৃত হয়।
এরও কিছুদিন আগে ইসরায়েল আকস্মিকভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে, যাতে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক গবেষকরা নিহত হন। একই সঙ্গে কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে বর্তমান সংঘাত শুধু সামরিক নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী চাপের যুদ্ধ, যা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপের সঙ্গে জটিল সংঘাতের কথা বলল ইরান
