রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ঢাকার খুচরা বাজারে এক ডজন ডিম ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা—দুই বাজারেই ডিমের দাম আগের তুলনায় কম।
ব্যবসায়ীদের মতে, চাহিদা কমে যাওয়াই এই মূল্যহ্রাসের প্রধান কারণ। তবে দীর্ঘ সময় দাম কম থাকলে খামারিরা উৎপাদনে আগ্রহ হারাতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এতে ভবিষ্যতে ডিমের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তেজগাঁও পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী সমিতির এক ব্যবসায়ী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তারা অনেক কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তার মতে, সাদা ডিম প্রতি পিস প্রায় ৬ টাকা এবং লাল ডিম প্রায় ৬ টাকা ৮০ পয়সা দামে বিক্রি হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
তিনি আরও বলেন, একটি ডিম উৎপাদনে সাধারণত প্রায় সাড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর সঙ্গে খামারের বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি, ঋণের সুদসহ অন্যান্য খরচ যোগ হয়। ফলে দাম কমে গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে ডিমের দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। রমজান মাসে চাহিদা আরও কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও প্রভাবিত হয়। এতে কিছু খামার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক খামারি মুরগি বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কারওয়ান বাজারের এক খুচরা দোকানদার বলেন, রমজানের শুরুতে এক ডজন ডিম প্রায় ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৯০ টাকার কাছাকাছি। একই সঙ্গে বিক্রির পরিমাণও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লার দোকান ও সুপারশপগুলোতে ডিমের দাম কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এসব জায়গায় এক ডজন ডিম সাধারণত ৯৮ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
শেওড়াপাড়ার এক দোকানদার জানান, তারা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ৯০ টাকায় কিনে থাকেন এবং ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে বিক্রি করেন। আড়ত থেকে কিনলে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একজন ক্রেতা জানান, আগের দিন তিনি এক ডজন ডিম ১২০ টাকায় কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন দাম কমে প্রায় ৯৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তাই সুযোগ বুঝে তিনি আবার ডিম কিনে নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের দাম দীর্ঘদিন কম থাকলে উৎপাদন কমে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।