যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে একাধিক নতুন চুক্তি করেছে ভারত। ওয়াশিংটনের আপত্তি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব চুক্তিতে সই করেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে দীর্ঘ বৈঠকের পর পুতিন জানান, ভারতকে অবিচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে মস্কো। ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় বাজারে পরিণত হয় ভারত। তাই পুতিনের এই আশ্বাসকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুতিন আরও জানান, দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করতে বেশ কয়েকটি নতুন সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। তাঁর ভাষায়—ভারতের জ্বালানি প্রয়োজন, যেমন তেল, গ্যাস ও কয়লা—এসবের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে রাশিয়া সবসময় পাশে থাকবে। দ্রুত সম্প্রসারিত ভারতীয় অর্থনীতির জন্য রাশিয়া জ্বালানি দিতে প্রস্তুত। যদিও নতুন চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকের শুরুতে পুতিন বলেন, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বিমান ও মহাকাশসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি এবং শ্রমগত চলাচল।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এ সফর ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা। কারণ দিল্লি একদিকে মস্কোর ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করাও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তাঁর দাবি—ভারত ‘কমদামে’ রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে। বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ভারত চীনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা শেষপর্যায়েপৌঁছেছে, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোনথি বলেন, এই সফর দেখিয়ে দিচ্ছে—পশ্চিমা চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখছে,
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হতে চাইলেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈশ্বিক উত্তেজনার সময়ে পুতিনের এই ভারত সফর কেবল প্রতীকী নয়—এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক বাইরের চাপ দিয়ে দুর্বল করা যাবে না। বৈঠকে উঠে এসেছে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে দিল্লিতে কূটনৈতিকভাবে ছিল ব্যস্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।
