ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণের মুখে তার দেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বন্দি বা হত্যা করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি—এই প্রেক্ষাপটেই তিনি এসব মন্তব্য করেন। বর্তমানে লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা কয়েক হাজার সেনা নিয়ে ইরানে প্রবেশের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লারিজানি বলেন, ইরানের জনগণ ও যোদ্ধারা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
এ সময় তিনি ইরানের বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, দেশের মানুষ তাদের নেতাদের আদর্শ অনুসরণ করে বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছে।
একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ইরান আতঙ্কিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি স্থল অভিযান শুরু হয়, তবে তা মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
গত শনিবার শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত এগোচ্ছে। তার মতে, আকাশপথে নিয়ন্ত্রণ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে হামলা পরিচালনা করতে পারছে।
তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে লারিজানি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করার পরিকল্পনা তাদের নেই।