রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ–এর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষক নেটওয়ার্কের এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই আহ্বান জানান।
রোববার শিক্ষক নেটওয়ার্ক তাদের ফেসবুক পেজে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এক্তিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ওই বিবৃতির মন্তব্য ঘরে সালাউদ্দিন আম্মার লেখেন—“শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।” পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ওই মন্তব্য মুছে ফেলেননি এবং সেটিকে নিজের মত প্রকাশের অধিকার হিসেবেই দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক নেটওয়ার্ক যদি তার কর্মকাণ্ডকে ‘অপতৎপরতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহলে তিনিও তাদের বিবৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখার অধিকার রাখেন। তিনি বলেন, “তারা যেমন একটি আহ্বান জানিয়েছে, আমিও তেমনই একটি আহ্বান জানিয়েছি। এটাও আমার স্বাধীন মতপ্রকাশ।”
শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, রাকসুর জিএসের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে এক ধরনের ‘মব কালচার’ তৈরি হয়েছে। ডিনদের পদত্যাগে চাপ সৃষ্টি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং প্রশাসনিক সীমা অতিক্রম করে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তোলা হয় বিবৃতিতে। সেখানে আরও বলা হয়, জিএস প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মোট ১২ জন ডিনের মধ্যে ছয়জনকে লক্ষ্য করে পদত্যাগের দাবি জানানো হলেও অন্য ছয়জনকে নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি, যা রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয় বলে দাবি করা হয়। এর ফলে কয়েকজন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও জানানো হয়।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও অভিযোগ করে, ক্যাম্পাসে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরির জন্য জিএস প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে এলে তাদের জোরপূর্বক ধরে এনে অপমান করা হবে। সংগঠনটির মতে, এসব আচরণ ছাত্র সংসদের এখতিয়ারের বাইরে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
এ বিষয়ে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়–এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য মাসুম রেজা। তিনি বলেন, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ২০১৪ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং ভিন্ন মতাদর্শের কারণে কাউকে চাকরিচ্যুত করার নজির নেই। তার মতে, ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ শিক্ষক সমাজকে আইনি সুরক্ষা দিয়েছে, যার ফলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেও শিক্ষকরা চাকরি হারান না। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বা ছাত্র প্রতিনিধি শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো বা লাঞ্ছিত করার ক্ষমতা রাখেন না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও আইনের বাইরে গিয়ে সে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। তবে শিক্ষকরা আইনের ঊর্ধ্বে নন—আইন অনুযায়ী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিচার হতে পারে, কিন্তু ‘মব’ তৈরি করে নয়। মাসুম রেজার মতে, একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি প্রশাসনিক সীমা অতিক্রম করে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
শিক্ষক নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান রাবি ছাত্র সংসদের জিএসের
