আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার পরিবর্তন হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অটুট থাকবে। তাঁর মতে, এই দুটি রাষ্ট্রীয় ভিত্তি ‘নিরাপদ ও স্থায়ী’ রূপেই ভবিষ্যতে টিকে থাকবে। বুধবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মানবাধিকার দিবস–২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে দুটি বিষয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। প্রথমত—তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমেই সুরক্ষিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত—সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এখন আদালতের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ফলে এ দুটিকে আর কেউ সহজে পরিবর্তন করতে পারবে না। আইন উপদেষ্টার মতে, মানবাধিকার উন্নয়নের জন্য এসব ব্যবস্থা মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তিনি জানান, সরকারে না থাকলেও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মিলেই তিনি এসব সংস্কার বজায় রাখার পক্ষে থাকবেন।উদাহরণ হিসেবে তিনি পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের কথাও উল্লেখ করেন। যদিও সম্পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন সম্ভব হয়নি, তবুও এটি সরকারের ওপর একটি স্বাধীন ও ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দ্রুত বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনি সহায়তা বিস্তৃতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা সংস্কারের অর্জনগুলোর কথাও তুলে ধরেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানান—বর্তমানে অর্জিত সংস্কারগুলো রক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি মত দেন।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লেজিসলেটিভ ওসংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী,ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধি স্টেফান লিলা এবং বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধি আলবার্তো জিওভানেত্তি প্রমুখ।
