ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান-এর প্রয়াত স্বামী অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামের সঙ্গে যুক্ত করা ‘বীর প্রতীক’ খেতাব বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামে প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না—তা যাচাই করার জন্য নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জামুকার মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহিনা খাতুনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলনা জেলার দৌলতপুর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেলগেট এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নাম ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বেসামরিক গেজেট নম্বর ৪১৯৩-এ প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে তার স্ত্রী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, একটি ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দিয়ে স্বামীর নামের শেষে ‘বীর প্রতীক’ খেতাব যুক্ত করার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক আবু সুফিয়ান বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছেন—যা পরবর্তীতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিও লেটারে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অধ্যাপক আবু সুফিয়ান শরণার্থীদের দুর্দশা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কথিকা পাঠ করতেন। জামুকা জানায়, ওই ডিও লেটারের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ১৫ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসামরিক গেজেট নম্বর ৪১৯৩ সংশোধন করে অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামের সঙ্গে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে জামুকার ১০২তম সভায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতভাবে সংশোধিত বেসামরিক গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে অধ্যাপক আবু সুফিয়ান প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না—তা যাচাইয়ের জন্য নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
জামুকা আরও জানায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মোট ৪৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর-উত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নাম নেই। এছাড়া ১৯৭৩ সালের পর নতুন করে কাউকে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া হয়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। জামুকার ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখা কর্তৃক অধ্যাপক আবু সুফিয়ানের নামের সঙ্গে ‘বীর প্রতীক’ যুক্ত করে যে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অবসান ঘটানো হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্বামীর ‘বীর প্রতীক’ খেতাব বাতিল
