সেন্টমার্টিন দ্বীপকে তার আগের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক রূপে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই প্রণীত পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবেশ, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দারিজওয়ানা হাসান। তাঁর মতে, পর্যটনের আড়ালে পরিচালিতলাগামহীন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডই দ্বীপটির পরিবেশ ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল
ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ আয়োজিত এক কর্মশালায়সেন্টমার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে,সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইতোমধ্যে ইকোলজিক্যালিক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত। বিশ্বের বহু দেশেই এ ধরনেরসংবেদনশীল দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, সেন্টমার্টিন মানেই পর্যটন নয়; বরং লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনা। উপদেষ্টা জানান,প্রস্তাবিতপাঁচটিমাস্টারপ্ল্যান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল করা সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, পর্যটন ব্যবস্থাপনা হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে। বাইরের লোকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই মূলত দ্বীপের পরিবেশগত বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। দ্বীপবাসীর বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মাস্টারপ্ল্যানে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে
সংরক্ষণকে; অর্থনীতি ও পর্যটন থাকবে তার পরের ধাপে।সেন্টমার্টিনকে বারবিকিউ পার্টি বা লাউডস্পিকারের স্থান নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি প্রকৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। স্থানীয় মানুষের বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হতে পারে হোটেল ও রিসোর্টনির্ভর পর্যটনের একটি টেকসই বিকল্প।তিনি আরও জানান, দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সরকার নিয়মিতভাবে নজরদারিতে রাখছে। পাশাপাশি দ্বীপের সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্বীপে কুকুর অনাহারে রয়েছে বা অপুষ্টিতে ভুগছে—এমন তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।সবশেষে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের এই অবস্থান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে সেন্টমার্টিনকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে সংরক্ষণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
সেন্টমার্টিনকে আগের অবস্থায় ফেরানোই পাঁচ মাষ্টারপ্ল্যানের মূললক্ষ্যঃ পরিবেশ উপদেষ্টা
