হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অবরোধ ভাঙতে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে নৌবাহিনীর জোট গঠন করতে পারে এবং সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে। তবে এ দাবির পর ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্য এই উদ্যোগে অংশ নেবে।
তবে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, তারা নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না। ফরাসি নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনী প্রধান আলিরেজা তাংসিরি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, বরং সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রণালীটি মূলত শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কিছু ব্যতিক্রম দেখা গেছে। ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনার পর ইরান কয়েকটি এলপিজি ট্যাংকারকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দুটি ভারতীয় ট্যাংকার ইতোমধ্যে নিরাপদে এই পথ পার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকটের দ্রুত কোনো সামরিক সমাধান নেই।