বুদাপেস্ট শহর সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত ছিল। রাস্তায় রাস্তায় মানুষ নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে, বারগুলোর বাইরে সমর্থকেরা জড়ো হয়ে উদযাপন করে এবং গাড়ির হর্নের শব্দে পুরো শহর এক ধরনের বিজয় উদযাপনের আবহে ভরে ওঠে। বিরোধী দল টিসজা পার্টির সমর্থকেরা রোববার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয়ের পর এই আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল, যা একটি রেকর্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই ফলাফলের মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান-এর শাসনের অবসান ঘটে। রাজধানী বুদাপেস্টে অনেক মানুষ মনে করেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটি আবারও ইউরোপীয় ধারায় ফিরে যাবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগোবে, যা ২০১০ সালের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
শহরের বিখ্যাত চেইন ব্রিজ হাঙ্গেরির জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হয়। দানিউব নদীর তীরজুড়ে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে পতাকা নাড়িয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা প্রদর্শন করে এবং কাগজের কাপ হাতে শ্যাম্পেন পান করে বিজয় উদযাপন করে।
একজন টিসজা সমর্থক সিলভিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি এই মুহূর্তের জন্য ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন এবং প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনা সত্যি হবে বলে কখনও ভাবেননি, এখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
নগরের মেট্রো ট্রেনে চলাচলের সময়ও মানুষ গান গেয়ে এবং “সব শেষ” বলে স্লোগান দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। পার্লামেন্ট ভবনের সামনে অনেকে রাতভর রেভ পার্টির মতো করে উদযাপন চালিয়ে যায়।
আরেক সমর্থক সান্ডর জোলেটনিক বলেন, এটি একটি বিশাল আনন্দের মুহূর্ত এবং তিনি আশা করেন নতুন নেতৃত্ব সবার জন্য কাজ করবে, যেমনটি তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তরুণদের একটি দল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, তারা এতদিন পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল এবং এখন সত্যিই আশা দেখতে পাচ্ছে যে হাঙ্গেরি সঠিক পথে এগোবে।
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ফিদেজ পার্টির জনপ্রিয়তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তাদের সমর্থন মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ, এবং ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যেও সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম।
নির্বাচনের পর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল থেমে যায়, কারণ রাস্তায় মানুষ উপচে পড়ে। অনেকেই নদীর ওপরের সেতুগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করে পতাকা হাতে আনন্দ-উল্লাস করতে থাকে।