ফজরের নামাজ আদায় ও দীর্ঘ সময় জিকিরে মশগুল থাকার পর আমরা সবাই মিলে সফর শুরু করি ওয়াদি সাহু-এর দিকে। ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি ছিল প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ)-এর যাতায়াতের অন্যতম পরিচিত পথ। এই স্থানটি একটি উঁচু ভূমি, যেখান থেকে ধীরে ধীরে দিগন্তে মদিনা মুনাওয়ারাহ-এর জনপদ চোখে পড়তে শুরু করে। এখান থেকেই মদিনার দিকে নেমে যাওয়া পথের সূচনা হয়। গোপন বার্তার স্মৃতিবাহী স্থান পরবর্তী যাত্রাবিরতিতে আমরা পৌঁছাই রাজা খাক নামক স্থানে। এই জায়গাটি ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়, কারণ মক্কা বিজয়ের ঠিক আগে এক সাহাবির প্রেরিত গোপন চিঠি এখান থেকেই উদ্ধার করেছিলেন হজরত আলি (রা.)। এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানটি ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদা লাভ করেছে। হামরাউল আসাদ ও বীর আর-এর ইতিহাস
আবয়ার-এ-মাশি—যার প্রাচীন নাম আল-খালায়েক—অতিক্রম করে আমরা এসে পৌঁছি হামরাউল আসাদ প্রান্তরে। সামনে বিস্তৃত লালচে পাহাড়ের টিলাগুলোই এই এলাকার পরিচয় বহন করে। এই পাহাড়গুলোর আড়ালেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘বীর আর’। উহুদ যুদ্ধের পরপরই এখানেই মুসলিম বাহিনী ও শত্রুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছিল, যা ইসলামী ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বরকতময় ওয়াদি আকিক সফরের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ওয়াদি আকিক-এ পৌঁছানো। প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) এই উপত্যকা সম্পর্কে বলেছেন, এখানে জিবরাঈল (আ.) এসে তাঁকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) এই উপত্যকায় রাত্রিযাপন করেন এবং একে কিয়ামত পর্যন্ত বরকতময় ভূমি হিসেবে ঘোষণা করেন।
দোয়া কবুলের আশীর্বাদময় সময় আমরা এখন অবস্থান করছি সেই বিশেষ উদ্ভিদরাজির নিকটে, যেখানে প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) মদিনার সীমানায় পৌঁছে প্রবেশের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। এখানেই তিনি গোসল করে নতুন পোশাক পরিধান করেন এবং মদিনায় প্রবেশের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। বর্তমানে জুমার দিনের সূর্যাস্তের আগের সেই মহামূল্যবান সময় উপস্থিত—যখন দোয়া কবুল হয়। এই পবিত্র ভূমিতে আমরা সবাই জিকির ও দোয়ায় নিমগ্ন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আজকের রাতটি আমরা এখানেই অতিবাহিত করব। ইতিহাসের গন্ধ মেখে আমাদের কাফেলা এখন মদিনা মুনাওয়ারার প্রবেশদ্বারে নীরব অপেক্ষায়।