ভূমিকম্প আতঙ্কের মাঝে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
সম্প্রতি ধারাবাহিক ভূমিকম্পে দেশের মানুষ উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নতুন করে শক্তিশালী এক ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস মিলেছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। রোববার (২৩ নভেম্বর) ভারতীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন—দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও নিকটবর্তী আন্দামান সাগরে অবস্থানরত দুর্বল নিম্নচাপটি ক্রমেই শক্তি সঞ্চয় করছে। এটি আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই গভীর নিম্নচাপের আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের উষ্ণ পানি, শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহ এবং কোনো ঠান্ডা বাতাস বাধা না দেওয়ায় নিম্নচাপটি দ্রুত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সিস্টেমটি মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে আরো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিকাশ লাভ করতে পারে। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে—নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘Seniyar’ (সেনিয়ার)। ২৮-২৯ নভেম্বর নাগাদ এটি বঙ্গোপসাগরের মধ্য বা পশ্চিম-মধ্য অংশে পৌঁছে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দিক পরিবর্তন হলে ১-২ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ উপকূলের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে আরও কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।আবহাওয়ার এ সিস্টেমটি ২১ নভেম্বর থেকে ২ বা ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। বিশেষভাবে ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এর তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রভাব ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে সমুদ্রে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিঃ মিঃ ২৬ নভেম্বর তা বেড়ে ৬০–৮০ কিমি ২৭ নভেম্বর গতি আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কিমি পর্যন্ত যেতে পারে সতর্কতা হিসেবে বিশেষজ্ঞরা সমুদ্রযাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।