ইরান বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া নৌ মহড়ার দ্বিতীয় দিনে ওমান সাগর এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর কাছে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল এই খবর সম্প্রচার করেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের আধা-সামরিক রিভোল্যুশনারি গার্ড দেশটির মূল ভূখণ্ডের গভীর থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ক্রুজ কদর-১১০, কদর -৩৮০ এবং গাদির, যেগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২০০০ কিলোমিটার। এছাড়াও রিভোল্যুশনারি গার্ডএকটিব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা “৩০৩” নামে পরিচিত, উৎক্ষেপণ করেছে। বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।টেলিভিশন ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।এটি জুন মাসে ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষের পর ইরানের দ্বিতীয় মহড়া। ওই সংঘর্ষে ইরান প্রায় ১,১০০ জন সদস্য হারিয়েছিল, যার মধ্যে একজন সামরিক কমান্ডার এবং একজন পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ২৮ জন নিহত হয়।যুদ্ধের পর থেকে ইরান বারবার বলছে যে, তারাভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতেপ্রস্তুত। আগষ্টে ইরান এই অঞ্চলে তার প্রথম নৌমহড়াচালিয়েছিল।ইরানের আধা-সামরিক রিভোল্যুশনারি গার্ড মূলত পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে অভিযান পরিচালনা করে,যেখানে জাতীয় নৌবাহিনী ওমান সাগর ও এর বাইরের অঞ্চলের দায়িত্বে থাকে।ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধকরার হুমকি দিয়ে আসছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের প্রায় ২০% বাণিজ্য পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাদের ৫ম ফ্লিটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে টহল দিয়ে পানিপথ খোলা রাখছে।
