ঢাকায় গত২৪ আগষ্ট বৈঠক করেন পাকিস্তানের উপ- প্রধানমন্ত্রী ইসাহক দার ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ছবি: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া যেতে পারে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও যুক্ত হতে পারে।ইসলামাবাদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, একতরফা সুবিধার ধারণা পাকিস্তান মানে না; বরং মুখোমুখি অবস্থানের বদলে পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ মূলত সার্কের স্থবিরতার পর একটি বিকল্প আঞ্চলিক কাঠামো গড়ার প্রচেষ্টা। ভারত–পাকিস্তানের উত্তেজনা এবং সার্কের অচলাবস্থার কারণে পাকিস্তান আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন পথ খুঁজছে।ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পটভূমিগত জুনে চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা একটি বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জানান, এই আলোচনার লক্ষ্য কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়।ইশাক দার বলেন, উন্নয়ন, প্রযুক্তি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করলে সহযোগিতা আরও কার্যকর হতে পারে। ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, আঞ্চলিক স্বার্থ কোনো এক দেশের কারণে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনবাংলাদেশে গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তাকে ফেরত পাঠাতে ভারত রাজি হয়নি।অন্যান্য দেশ যুক্ত হতে চাইবে কি?বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের চেয়ে অধিক কল্পনাপ্রসূত। সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পর নতুন উদ্যোগ কিছু দেশের কাছে আকর্ষণীয় মনে হলেও ভারতকে বাদ দিয়ে একটি জোট গঠন করা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।রাবিয়া আক্তার মনে করেন— শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান যোগাযোগ, জলবায়ু বা অর্থনৈতিক কারণে প্রাথমিক আগ্রহ দেখাতে পারে,কিন্তুভারতচীনপাকিস্তানেরভূরাজনৈতিকসংবেদনশীলতার কারণে তারাআনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে সতর্ক থাকবে। ফরওয়া আমেরের মতে, ভবিষ্যতে বড় বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা বেশি সফল হবে। পাকিস্তান বর্তমানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ওউপসাগরীয়দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করায় নিজেদের একটি কৌশলগত অবস্থানে দেখছে— যা তাদের নতুন আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তান নতুন আঞ্চলিক ব্লক গঠনের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে পরিবর্তিত দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ক্ষুদ্র পরিসরের সহযোগিতা ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
