ছবিঃ সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ বর্তমানে ঋণের চাপের মধ্যে রয়েছে এবং এ বাস্তবতা স্বীকার করেই অগ্রগতি সম্ভব।সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও দেশের কর–জিডিপিঅনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, কিন্তু এখন তা নেমে এসেছে ৭ শতাংশের কাছাকাছি। তাঁর মতে, জিডিপির সব খাত থেকে আয় সংগ্রহ করতে না পারাই এ পতনের অন্যতম কারণ। এ অবস্থার কারণ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেসমাধানে এগোতে হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করে দুজন সচিবের নেতৃত্বে নতুন কাঠামোতে কাজ শুরু করা হবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, অর্থ বিভাগের সচিব মো.
খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের জিইডি সদস্য মঞ্জুর হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিইডির অতিরিক্ত সচিব মনিরা বেগম। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান আলোচনায় বলেন, ঋণের বোঝা বাড়া দেশের জন্য শুভ নয়। এতে ঋণ শোধ করতে আবার নতুন ঋণ নিতে হবে। তিনি জানান, আগে বাজেটে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হতো সরকারি কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ও পেনশনে, এরপর কৃষি ও শিক্ষাখাতে। কিন্তু এখন কৃষি–শিক্ষাকে পেছনে ফেলে ঋণের সুদ পরিশোধই অন্যতম বড় ব্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“এনবিআর চেয়ারম্যান: ঋণের চাপ স্বীকার না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়”
