ছবি সংগৃহীত
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সামরিক সংঘর্ষে মোসাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছে।আইআরজিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি–মোহাম্মদ নাঈনি ছাত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন।তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমন্বিতভাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া চালু হয়। তেহরানে ইসরায়েলের
জ্বালানি গুদামে হামলার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরান হাইফা রিফাইনারিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ইসরায়েলি সূত্রের ভাষ্যমতে ছিল অত্যন্ত নিখুঁত আঘাত এবং এতে রিফাইনারিটি অচল হয়ে যায়।
এরপর ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা স্থাপনায় হামলার জবাবে ইরান মোসাদের একটি কেন্দ্রকে টার্গেট করে এবং সেখানে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে নাঈনি দাবি করেন।তিনি আরও জানান,‘ট্রু প্রমিজ–৩’ নামে ইরানের সামরিক অভিযান যুদ্ধ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চালু হয়। এতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার
আক্রমণ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বহুস্তরীয় কৌশল ব্যবহৃত হয়। নাঈনির মতে, গোটা যুদ্ধে ইরান সম্পূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য-সুবিধা নিয়ে মাঠে নামে।নাঈনির বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষতি ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তিনি দাবি করেন, ইরানের উন্নত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র একটি ৩২ তলা ভবনের ভূগর্ভস্থ স্তরেও সঠিকভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে—যা তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ।তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল সম্পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করলেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যেখানে ইসরায়েল বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিল, সেখানে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে।ইরানের তরুণ সামরিক বিশেষজ্ঞদের দক্ষতার কথা উল্লেখ করে নাঈনি বলেন, ইরান–ইরাক যুদ্ধের পর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশল তৈরি হয়েছে জনগণভিত্তিক সামরিক শক্তি ও অসম যুদ্ধনীতির ওপর। ১২ দিনের এই সংঘর্ষকে তিনি সামরিক বিশ্লেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
মোসাদ সদরদপ্তরে ইরানের হামলায় নিহত ৩৬
