আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা আবারও এক দ্বীনী সভায় অংশগ্রহণের তাওফীক লাভ করেছি, আলহামদু লিল্লাহ। সকলের জন্য দোয়া…
اَللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِيْ مِنْ نِّعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِّنْ خَلْقِكَ، فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ.
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَصْبَحْتُ، أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ، وَمَلَائِكَتَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ، أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ.
কুরআন কারীমের সূরা আম্বিয়ার ৯০ নম্বর আয়াতে নবীদের বিশেষ গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে:
“নিশ্চয়ই তারা নেককাজে তাড়াহুড়া করত, আশা ও ভয়ের সঙ্গে আল্লাহকে ডাকার অভ্যাস করত, আর তাদের অন্তর ছিল আমার প্রতি বিনীত।”
–সূরা আম্বিয়া (২১): ৯০ নবীরা কখনো নেককাজে দেরি করতেন না। সুযোগ পেলে দ্রুত সৎকাজে আগ্রহী হতেন। তারা আল্লাহর রহমতের আশা ও তার শাস্তির ভয় নিয়ে সর্বদা প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন। খুশূ এবং নবীদের জীবন:খুশূর অর্থ কেবল নামাযে মনোযোগ নয়; পুরো জীবনকে খুশূর মাধ্যমে পরিচালনা করা। নবীগণের জীবন পুরোপুরি খুশূতে ভরা ছিল। একজন মুমিনের জীবনও এমন হওয়া উচিত—প্রতিটি কাজ ও আচরণ আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে। খুশূর মূল শর্ত:১. তাওহীদ – একমাত্র আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ। আল্লাহর বাহিরে কোনো ইলাহ বা মাকসূদে মনোযোগ নেই।২. তাকওয়া – আল্লাহর ভয় ও সতর্কতা, যা রাগ, অহংকার, বা অন্য অবাঞ্ছিত বৈশিষ্ট্য থেকে আমাদের রক্ষা করে। ৩. ইখলাস – সব আমল নিখুঁতভাবে আল্লাহর জন্য করা।নবীগ সব আমল সুন্নত অনুযায়ী করতেন, এবং অন্তরে আল্লাহর উপস্থিতি সচেতন রাখতেন। এভাবেই প্রতিটি আমল খুশূর মধ্যে পূর্ণতা পেত। খুশূর বাহ্যিক প্রকাশ: চলাফেরা: মার্জিত ও সংযতভাবে। কথা বলার ধরন: চিৎকার নয়, শান্ত ও মার্জিত স্বরে।দান-সদকা: ভীত-কম্পিত হৃদয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়ে।হজ্ব: প্রতিটি পদক্ষেপ ও প্রার্থনা খুশূর সঙ্গে। খুশূর বিরুদ্ধে: অযথা দৃষ্টি ঘোরানো বা অহংকারে চলাফেরা। উজব বা আত্ম-মুগ্ধতা – নিজের গুণের প্রতি অতিরিক্ত আবদ্ধ থাকা। নিয়ন্ত্রণহীন রাগ, যা খুশূর বিকার ঘটায়।ইহসান ও আদব: খুশূপূর্ণ জীবন গড়তে ইহসান’অপরিহার্য। প্রতিটি কাজ ও আচরণ সুন্দরভাবে, ইসলামী আদব এবং নৈতিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, চলাফেরা, কথা বলা, দান করা—সবকিছুতে অন্তরে এবং বাহ্যিকভাবে খুশূ বজায় রাখতে হবে। মুমিনের জীবন হবে খুশূর জীবন, যখন অন্তর ও বাহ্যিক আচরণ উভয়ই আল্লাহর স্মরণ ও সন্তুষ্টির দিকে নিবেদিত হবে। এজন্য তাওহীদ, তাকওয়া, ইখলাস এবং ইহসানের মাধ্যমে জীবনকে খুশূর আলোয় আলোকিত করতে হবে।
চলমান…
মমিনের জীবন হবে سعيد জীবন
