সংগৃহীত ছবি
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর–সদর একাংশ) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ও জেলা আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী এলাকায়। এতে জামায়াতের অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াত। প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। আহতদের মধ্যে পিপুলবাড়িয়া আঞ্চলিক শাখার সভাপতি আব্দুল আওয়াল, ছোনগাছা ইউনিয়নের আমির নজরুল ইসলাম এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি নুর আলমকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আরমান হোসেনসহ কয়েকজন চিকিৎসা নিয়েছেন ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলম অভিযোগ করেন, সোনামুখী ইউনিয়নের স্থলবাড়ি গ্রামে একটি ইসলামী জলসায় তাঁর বক্তব্যে বাধা দেওয়া হয় এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। ফেরার পথে সোনামুখী এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি সমর্থকরা অতর্কিত হামলা করে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ওই সময় বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজার উপস্থিতি ঘটনাটিকে ‘পরোক্ষ সমর্থন’ দিয়েছে। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এটি প্রমাণ করে যে এখনো মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়নি।জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া সেলের মুখপাত্র মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি নিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াত বহিরাগত ও অন্য দলের লোকজন নিয়ে সভায় গেলে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়, ফলে সভা বন্ধ হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তাঁর দাবি, তিনি চলে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে কিছু উত্তেজনা দেখা দেয়, তবে এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।কাজীপুর থানার ওসি শাহ মুহাম্মদ এনায়েতুর রহমান জানান, ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষেরই মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে দুপুর পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি।
“সিরাজগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর ওপর হামলা–উত্তেজনা, দুই পক্ষেরই অভিযোগ”
