যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ অভিযান দল ভারত মহাসাগরে চীন থেকে ইরানের পথে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে কিছু সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে। পরে এই জব্দকৃত সামগ্রী ধ্বংস করা হয়, তবে জাহাজটিকে তার গন্তব্যে যেতে দেওয়া হয়। আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর অনুযায়ী, অভিযানটি গত মাসে শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে কয়েকশ মাইল দূরে অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, জাহাজের কার্গোর মধ্যে এমন কিছু যন্ত্রাংশ ছিল যা ইরানের প্রচলিত অস্ত্র প্রোগ্রামে ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও জব্দকৃত উপকরণ ধ্বংস করা হয়েছে, জাহাজটি পরে চলতে দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো–প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড এই অভিযান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জব্দকৃত সামগ্রী ইরানের অস্ত্র তৈরিতে ‘সম্ভাব্যভাবে ব্যবহারযোগ্য’ এবং এগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অর্থাৎ এগুলো বেসামরিক কাজে ও ব্যবহার হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরানে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ ঠেকানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও বাধাদানের কৌশলকে নির্দেশ করে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় ইরান ও চীন তখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ১২ নভেম্বর এক ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন উড়োজাহাজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহকারী নেটওয়ার্ক ভাঙতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এতে ইরান ‘প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচি’র জন্যও উপাদান সংগ্রহ করে বলে উল্লেখ রয়েছে। আল জাজিরা আরও জানিয়েছে, এই অভিযান এমন সময়ে সামনে এসেছে যখন নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা আলোচনায় রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। এই অভিযানে জাহাজের নাম, মালিকানা বা জব্দকৃত যন্ত্রাংশের বিস্তারিত তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
‘চীন থেকে ইরানগামী জাহাজ আটক যুক্তরাষ্ট্রের, সামরিক সরঞ্জাম জব্দ ‘
