ছবি সংগৃহীত
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের দিকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে Royal Navy। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে UK Defence Journal জানিয়েছে, এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সর্বোচ্চ গোপনীয়তার আওতায় রাখা হয়েছে। মিশনের উদ্দেশ্য ও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ারক্রমবর্ধমান প্রভাব ও কৌশলগত তৎপরতার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কোনো সাধারণ সামরিক মহড়া নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনা।
প্রাপ্ত তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে, এই গোপন অভিযানের নেতৃত্ব দিতে পারে যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী কোনো বিমানবাহী রণতরী—সম্ভবত HMS Queen Elizabeth অথবা HMS Prince of Wales। সাধারণত এমন বড় নৌ অভিযানের ঘোষণা আগেভাগেই দেওয়া হয়, কিন্তু এবারের মিশনটিকে ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযানের একটি বড় উদ্দেশ্য হতে পারে উত্তর মেরুর চরম বৈরী আবহাওয়া ও বরফাচ্ছন্ন পরিবেশে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা। একই সঙ্গে ন্যাটোর উত্তর সীমান্তে উপস্থিতি জোরদার করা এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখাও এই উদ্যোগের অংশ হতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামরিক চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়াসহ একাধিক শক্তিধর রাষ্ট্র সেখানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযানে বিমানবাহী রণতরীর পাশাপাশি একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত যুদ্ধবিমান অংশ নিতে পারে। এটি যুক্তরাজ্য ও তার ন্যাটো মিত্রদের সম্মিলিত কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যার লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলে মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা ও নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা। একজন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই অভিযান যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। চরম প্রতিকূল পরিবেশে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।” নিরাপত্তার কারণে অভিযানের সময়সূচি, অংশগ্রহণকারী জাহাজের সংখ্যা কিংবা সেখানে অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে ব্রিটিশ নৌবাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
আর্কটিকের পথে রহস্যময় ব্রিটিশ বিমানবার্হী রণতরী
