নেপালের রাজনীতিতে আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরেছেন কে পি শর্মা ওলি। টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি নেপালের সবচেয়ে বড় কমিউনিস্ট দল নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের মুখে তার সরকারের পতন ঘটলেও, সাময়িক রাজনৈতিক চাপ কাটিয়ে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এলেন তিনি।
সম্প্রতি আয়োজিত এক দলীয় সমাবেশে ইউএমএল-এর ডাকে সাড়া দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা দলটির সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চেয়ারম্যান নির্বাচনে ওলি পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈশ্বর পুখরেল পেয়েছেন ৫৬৪ ভোট। এর আগে অনুষ্ঠিত দলের বিধি সম্মেলনে নির্বাহী পদে দুই মেয়াদের সীমা এবং ৭০ বছরের বয়সসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে সত্তরের বেশি বয়স হলেও ওলির তৃতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান হওয়ার পথ সুগম হয়। একই সম্মেলনে শঙ্কর পুখরেল দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ২২৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, ঈশ্বর পুখরেলের প্যানেলভুক্ত সুরেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে পেয়েছেন ৯৯৯ ভোট। এ ছাড়া ওলি নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে চারজন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, অপরদিকে পুখরেল শিবির থেকে একজন প্রার্থী সহ-সভাপতি পদে জয় লাভ করেছেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে এক সমাবেশে ওলি দেশের সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে তার দল ইতোমধ্যে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট-এ আবেদন করেছে।সমাবেশে তিনি আরও বলেন, জেন-জি তরুণদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তার দলের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এই অভিযোগ সঠিক নয়। আগামী ৫ মার্চ নেপালে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বড় কমিউনিস্ট দলের নেতৃত্ব দেবেন ওলি। জেন-জি আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে পারেন কি না—সেদিকেই এখন নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।
দলীয় নির্বাচনে জেন-জি বিক্ষোভে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী অলির চমক
