গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে লেখেন, “শহীদ হাদি ভাইয়ের খুনিদের যতক্ষণ না ভারত ফেরত দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধ থাকবে। এখন না হলে কখনোই নয়—আমরা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আছি।” উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীর বিজয়নগরে রিকশাযোগে চলার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী খুব কাছ থেকে গুলি চালায় ওসমান হাদির দিকে। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদকে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে মোটরসাইকেল চালানোর অভিযোগ রয়েছে আলমগীর শেখের বিরুদ্ধে। পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, তারা দুজনই পলাতক এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
হত্যাকাণ্ডের বিচার ও অভিযুক্তদের দেশে ফেরত আনার দাবিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পারাপার ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হাদির খুনিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় হাইকমিশন বন্ধঃ পারছিস আলম
