গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্বাচনী পার্লামেন্টারি বোর্ড রাজশাহী বিভাগীয় তালিকা ঘোষণা করে। এতে সিরাজগঞ্জ–১ (কাজিপুর সদর একাংশ) সংসদীয় আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম বেলাল। মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জাকের পার্টির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাথে জাকের পার্টির নির্বাচনী পার্লামেন্টারি বোর্ডকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তার রাজনীতি পোস্টার-ব্যানার কিংবা শ্লোগাননির্ভর নয়; তার রাজনীতি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, দাবি-দাওয়া ও বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলার যে রাজনীতি—সেই পথেই তিনি গড়ে উঠেছেন। দলীয় অঙ্গনে তার সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব তৈরির সক্ষমতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা ইতোমধ্যেই নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন—টেবিলের রাজনীতি নয়, মাঠের রাজনীতিই মানুষের প্রকৃত আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ। নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট সাত থেকে আট লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং প্রতিটি জেলা গড়ে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই বিপুল অর্থের কতটা বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেয়? তার মতে, সমস্যার মূল কারণ অর্থের ঘাটতি নয়; বরং সুষম বণ্টন ও গুণগত বাস্তবায়নের অভাবই প্রকৃত অন্তরায়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচিত হলে যমুনা বেষ্টিত কাজিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের দুঃখ-কষ্ট তার অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানে উপজেলা বাজেট যেন সত্যিকার অর্থে কাজে লাগে—সেই নিশ্চয়তা দিতে চান তিনি। তার লক্ষ্য, উন্নয়ন যেন কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে মানবিকতা। রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। জনগণ তাদের ভোটে তাকে নির্বাচিত করলে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিরাপদ জীবনকে তিনি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবেন।
তার স্বপ্ন—এমন একটি জনপদ গড়ে তোলা, যেখানে কেউ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাবে না, কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। নিজের নির্বাচনী এলাকাকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসেই টেকসই পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ প্রজন্ম নিয়ে তার ভাবনা স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তরুণ সমাজকে সঠিক পথে রাখা। দিকনির্দেশনা ও সুযোগের অভাবে তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়—একটি গভীর সামাজিক সংকট। তার লক্ষ্য খেলাধুলা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণদের একটি সুস্থ, সচেতন ও আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তার বিশ্বাস, তরুণ সমাজ সঠিক পথে থাকলে সমাজ নিজেই বদলে যাবে।
দালালমুক্ত প্রশাসন গঠনের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিস, থানা ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে দালাল- নির্ভরতা সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ। নির্বাচিত হলে এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। তার প্রত্যাশা—সরকারি অফিস যেন ভয়ের প্রতীক না হয়;মানুষ যেনকোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি সেবা পায়। প্রশাসন হবে জনগণের সেবক, দালালের আশ্রয়স্থল নয়—এটাই তার দৃঢ় অঙ্গীকার। আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এমন একটি সমাজ চান যেখানে পুলিশ মানেই ভয় নয়—নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে জনগণের বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। প্রচলিত রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণকে তার কাছে আসতে হবে না—তিনি নিজেই জনগণের কাছে যাবেন। এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার রাজনীতির মৌলিক দর্শন।কর্ম সংস্থানসমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির জনপদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান। তার রাজনীতিকেবল উন্নয়নের রাজনীতি নয়—এটি মূল্যবোধের রাজনীতি, যেখানে মানুষই হবে সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু।
সিরাজগঞ্জ -১ জাকের পার্টির মনোনয়ন পেলেন মোঃ রেজাউল করিম
