মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির-কে একজন “অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি বড় যুদ্ধ ঠেকাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ভয়াবহ সংঘাত, এমনকি পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের সেনা-
প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাকে বলেছেন—এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। তার মতে, সে সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছিল এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি সামরিক বিমানও ভূপাতিত হয়েছিল।তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় এটি একক ঘটনা নয়; বরং তিনি এখন পর্যন্ত মোট আটটি সম্ভাব্য যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছেন।
ওই অনুষ্ঠানেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ পরিকল্পনার কথাজানান। এই উদ্যোগকে দেশটির নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও একা-
ধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন। দেশ দুটি স্বাধীনতার পর থেকে তিনবার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে।চলতি বছরের মে মাসে ভারতপাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেরপেহেলগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর এক হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় ২৬ জন পুরুষ নিহত হন, যা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।ভারতের পক্ষ থেকে এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হলেও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করে। ঘটনার পর ভারত টানা কয়েক দিন পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়, এতে বেশ কয়েকজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। পরবর্তীতে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে পাল্টা জবাব দেয়।
পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল মনিরকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ ব্যাক্তির স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প
