দশ দলীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা আসতে না আসতেই ভাঙনের কোনো প্রকাশ্য সংকেত না মিললেও ভেতরে ভেতরে শুরু হয়েছে সূক্ষ্ম রাজনৈতিকটানাপোড়েন। জোটের প্রধান দুই শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—এর মধ্যে আসন বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের নীরব স্নায়ুযুদ্ধ। ইসলামী আন্দোলনের ভেতরথেকেঅভিযোগ উঠেছে, জোট গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায়জামায়াততুলনামূলক প্রভাবশালী ভূমিকা নিয়েছে, যা অনেকের চোখে ‘বড় ভাইসুলভ’ আচরণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। যদিও জামায়াত নেতৃত্ব এ অভিযোগ অস্বীকার করে জোটের স্বার্থে ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। আসন বণ্টন ঘিরে ক্ষোভ ইসলামী আন্দোলনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জোটের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নতুন শরিক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তে তাদেরমতামতযথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিশেষ করে, যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নেতারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন, সেসব আসনেও জামায়াতের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ায় অসন্তোষ বেড়েছে। তাদের মতে, দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম সাম্প্রতিক গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক সক্রিয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সে অনুযায়ী বিশেষ সমঝোতা দেখা যায়নি।
নেতৃত্বের বক্তব্যে সংযম ও আশ্বাস ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ সরাসরি অভিযোগে না গিয়ে জোট রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই জোটের মূল দর্শন হলো বহু দলের সম্মিলিত প্রয়াস, যেখানে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আন্তরিকতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জোটের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও ছাড় দিতেজামায়াত প্রস্তুত। জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ইতোমধ্যে সৈয়দ ফয়জুলকরীমকে একটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবংবাকিবিষয়গুলোও আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার পথেরয়েছেজোটসম্প্রসারণের ইঙ্গিতএই অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির মধ্যেই জোটের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) শিগগিরই এই জোটে যুক্ত হতে পারে।এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম রহস্যময় ভঙ্গিতে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, সময় হলেই তা স্পষ্ট হবে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে আসন ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক মতপার্থক্য অস্বাভাবিক নয়। তবে এই অস্বস্তি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে নির্বাচনী মাঠে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আধিপত্যবাদবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য ধরে রাখাই এখন এই জোটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।