রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেরাশিয়ার বিজয় অবশ্যম্ভাবী। বুধবার দেওয়া এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি মূলত ইউক্রেনে অবস্থানরত রুশ সেনা ও সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে কথা বলেন।প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই সামরিক সংঘাতে দুই পক্ষের মিলিতহতাহতের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণেধারণা করা হচ্ছে। পুতিন তার ভাষণে সেনাদের ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি তাদের ওপর যেমন আস্থা রাখেন, তেমনি চূড়ান্ত বিজয় নিয়েও তিনি আশাবাদী।বক্তৃতায় তিনি তার একটি বাসভবনে কথিত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রসঙ্গ তোলেননি। এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, এমন অভিযোগ শান্তিআলোচনাকে ভিন্ন পথে নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে তারা জড়িত নয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত বন্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। তবে পুতিন এর আগে একাধিকবার জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যেসব ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে রাশিয়ার অংশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর বাকি এলাকাও সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে দখলের চেষ্টা চালানো হবে।পুতিনের এই নববর্ষের ভাষণটি সর্বপ্রথম রাশিয়ার সবচেয়ে পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে সম্প্রচারিত হয়। একই দিনে তার ক্ষমতায় থাকার ২৬ বছর পূর্ণ হয়।বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে মস্কো, যার ফলে হাজারো বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।রাশিয়ার হামলায় নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে অনেক মানুষকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।
রাজধানী কিয়েভ-এর উপকণ্ঠের ভিশহোরোদ শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা বোমাবর্ষণের কারণে কয়েক দিন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, এসব হামলা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।