বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই বিধান অনুসারে বর্তমানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন—এমনটাই মত দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার।দলীয় সূত্রগুলো জানায়, গঠনতন্ত্রের এই বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য আলাদা করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সার্বিক শোকের আবহ বিবেচনায় কৌশলগত কারণে বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় শোক ও দলীয় শোক কর্মসূচি চলমান থাকায় বর্তমানে দলীয় কর্মকাণ্ডে পদবি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। দলের ইতিহাসে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান–এর মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। টানা চার দশকেরও বেশি সময় তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে দলের গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারার উপধারা অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই ধারায় বলা আছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানই দলের সব দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সময় থেকে তিনি কার্যত দলের প্রধান হিসেবে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গঠনতন্ত্রের একই ধারার আরেকটি উপধারা কার্যকর হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী সময়ে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এই বিধান অনুযায়ী তারেক রহমান এখন বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণে আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদিও বাস্তবে এখনও কিছু দলীয় বিবৃতি ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন, এটি মূলত বর্তমান শোকাবহ পরিস্থিতির কারণেই হচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, এই সময়ে পদ-পদবি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার চেয়ে দল ও দেশের শোকই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীরাই নয়, পুরো দেশই এক ধরনের অভিভাবকহীনতার অনুভূতিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না দেওয়াকেই উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে। তবে দলীয়ভাবে একটি বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে—গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে তারেক রহমানই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ড সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।