যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পদাবিকরেছেন, ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। শনিবার ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান। তবে কী প্রক্রিয়ায় মাদুরোকে আটক করা হয়েছে কিংবা তাকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে এবং অভিযানের অংশ হিসেবেই মাদুরো দম্পতিকে আটক করে দেশ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সি বি এস নিউজ -কে দেওয়া তথ্যের বরাতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে। ডেল্টা ফোর্স মূলত যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ সন্ত্রাস দমন ইউনিট। তবে এসব দাবির বিষয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে।
CNN-এর সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ জানান, একটি বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তার বাসার জানালার কাচ কেঁপে উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী কারাকাস-এ বিস্ফোরণের পাশাপাশিযুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতের আকাশে আলোর ঝলকানি ও ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখা যায়, যার পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়।জরুরি অবস্থা ঘোষণা ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাগুলোতে চালানো অভিযানের বিষয়ে হোয়াইট হাউস অবগত রয়েছে এবং হামলার নির্দেশনা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই দেওয়া হয়েছেআন্তর্জাতিক
প্রতিক্রিয়া এই ঘটনার পর প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।রাশিয়া এই ঘটনাকেসরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশ ইরান ও কিউবা এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে এই সামরিকঅভিযানের নিন্দা জানিয়েএকেভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।অন্যদিকে স্পেন ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে সংযম ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর জোর দিয়েছে এবং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।
মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে: ট্রাম্প
