গত কয়েক দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলায় তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সূর্যের দেখা মিলছে না, চারদিক ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মতো কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের সঙ্গে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যমুনাপাড়ের এই জনপদ।
জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি দিন দিন বাড়ছে শীতের দাপট। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে কৃষক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে চরম কষ্টকর। সোমবার সকালে জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলছে।যমুনাপাড়ের এই অঞ্চলে প্রতিদিনই শীতের প্রকোপ বাড়ছে। কম তাপমাত্রার কারণে সকালবেলা অনেক মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন এলাকায় খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। চরাঞ্চলে গবাদি পশু রক্ষা করাও কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ঘন কুয়াশা আর কনকনে বাতাস উপেক্ষা করেই জীবিকার প্রয়োজনে অনেককে নৌকায় করে যমুনা নদী পার হতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। রিকশাচালক আল আমিন হোসেন জানান, কুয়াশা এমনভাবে পড়ছে যেন হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। রাস্তায় যাত্রীও কম, ফলে আয় প্রায় নেই। তবুও সংসার চালানোর তাগিদে ঠান্ডার মধ্যেই রিকশা নিয়ে বের হতে হচ্ছে।একটি ইটভাটায় কর্মরত ৬৫ বছর বয়সী শ্রমিক রহিমা বেওয়া বলেন, কুয়াশা আর প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেই তাকে ইট সাজানোর কাজ করতে হচ্ছে। ঠান্ডায় শরীর শক্ত হয়ে এলেও কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই, কারণ কাজ না করলে খাবার জোটে না। তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ঝিরি ঝিরি কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া বইছে বলেই শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। সকালে তাড়াশে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে। উত্তরের ঠান্ডা বাতাস ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীত আরও বেশি কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে।