হুযূর মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম (ﷺ)-এর নূরানিয়ত (নূর হওয়া) সম্পর্কে বলা হয়, যখন কারো হৃদয়, দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত হয়, তখন স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ)-এর শরীরের কোনো ছায়া ছিলোনা। কারণ, নূর ও ছায়া একত্রিত হতে পারে না।সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা‘আলা হুযূর (ﷺ)-কে যে অগণিত মু’জিযা দিয়ে ধন্য করেছেন, তার মধ্যে একটি মহা মু’জিযা হলো, তাঁর নূরানী শরীরের ছায়া ছিলোনা। ঈমানদারদের জন্য এটি অবশ্যই স্বীকারযোগ্য। উম্মতের বিশিষ্ট আলিমগণ এ বিষয়ে অসংখ্য দলীল সংগ্রহ করেছেন। দলীল-প্রমাণের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ। ১. হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন:
قَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ الله عَنْهُ إِنَّ الله مَا أَوْقَعَ ظِلَّكَ عَلَى الْأَرْ لِئَلَّا يَضَعَ إِنْسَانٌ قَدَمَهُ عَلَى ظِلِّكَ[تفسير مدارك التنزيل:
জ-৩: পৃ. ১০৩]অর্থঃ “নিশ্চয় আল্লাহ আপনার ছায়া যমীনের উপর পড়তে দেননি, যাতে কেউ সেই ছায়ার উপর পা না রাখে।”২. হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা ও হযরত আবূ হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিশেষ শাগরিদ হযরত ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন:
لَمْ يَكُنْ لِلنَّبِي ﷺ ظِلٌّ وَلَمْ يَقُمْ مَعَ الشَّمْسِ قَطُّ إِلَّا غَلَبَ ضُوْءُهُ ضُوْءَ الشَّمْسِ وَلَمْ يَقُمْ مَعَ سِرَاجٍ قَطُّ إِلَّا غَلَبَ ضُوْءُهُ ضُوْءَ السِّرَاجِ[جمع الوسائل للقاری: জ-১: পৃ. ১৭৬]
অর্থঃ হুযূর (ﷺ)-এর ছায়া ছিলোনা। সূর্যের সামনে দাঁড়ালেই তাঁর নূর সূর্যের আলোকে জয় করতো,প্রদীপের আলোতেও তাঁর নূর জয়ী হতো। ৩. হযরত হাকীম তিরমিযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন:
أَنَّ رَسُولَ الله (ﷺ) لَمْ يُرَ لَهُ ظِلٌّ فِي الشَّمْسِ وَلاَ قَمَرٍ
[ترمذى ـ نوادر الاصول: জ-৪: পৃ. ৩৪০]
অর্থঃ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ছায়া না রোদে দেখা যেতো, না চাঁদের আলোতে। ৪. হাফিযুল হাদীস আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী আলায়হির রহমাহ্ লিখেছেন:
بَابُ الْآيَةِ فَإِنَّهُ (ﷺ) لَمْ يَكُنْ لَهُ ظِلٌّ فِي الشَّمْسِ وَلاَ قَمَرٍ
অর্থঃ নবী ﷺ-এর ছায়া ছিলোনা, না রোদে, না চাঁদের আলোতে। ৫. হযরত ইবনে সাব‘ই বলেছেন:
قَالَ إِبْنُ سَبْعٍ مِنْ خَصَائِصِه (ﷺ) أَنَّ ظِلَّهُ كَانَ لاَ يَقَعُ عَلَى الْأَرْضِ وَأَنَّهُ كَانَ نُورًا فَكَانَ إِذَا مَشَى فِي الشَّمْسِ أَوِ الْقَمَرِ لاَ يُنْظَرُ لَهُ ظِلٌّ। [الخصائص الكبرى: জ-১: পৃ. ৬৮]
অর্থঃ হুযূর (ﷺ) নূর ছিলেন, তাই তাঁর ছায়া কখনো দেখা যেতো না। ৬. হযরত ক্বাযী আয়ায রাহ.লিখেছেন:
وَمَا ذُكِرَ مِنْ أَنَّهُ كَانَ لاَ ظِلَّ لِشَخْصِهِ فِي الشَّمْسِ وَلاَ قَمَرٍ لِأَنَّهُ كَانَ نُورًا وَأَنَّ الذُّبَابَ كَانَ لاَ يَقَعُ عَلَى جَسَدِهِ وَلاَ ثِيَابِهِ
[শেফা শরীফ: ১ম খন্ড, পৃ. ২৪২]অর্থঃ নবী (ﷺ)-এর নূরানী শরীরের ছায়া রোদ বা চাঁদের আলোতে থাকতো না। মাছিও কখনো তাঁর শরীর বা কাপড়ে বসতো না। ৭. হযরত ইমাম রাগেব ইসফাহানী লিখেছেন:رُوِيَ أَنَّ النَّبِي (ﷺ) كَانَ إِذَا مَشَى لَمْ يَكُنْ لَهُ ظِلٌّ[مفردات امام راغب: পৃ. ৩১৭]অর্থঃ নবী (ﷺ) যখন চলতেন, তাঁর ছায়া থাকতো না।অন্যান্য প্রমাণ অন্যান্য যুগখ্যাত আলিমগণ যেমন: ইমাম শিহাবুদ্দীন খাফ্ফাজী মিসরী আল্লামা বোরহানুদ্দীন আহমদ হালাবী আল্লামা শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজর মক্কী আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ তাহের আল্লামা শায়খ সুলায়মান জুমালইমাম ফখরুদ্দীন রাযীইমাম তাক্বিউদ্দীন সুবকীআল্লামা সা-হিবুল ওয়াফা
ইমামে রব্বানী শায়খ আহমদ মুজাদ্দিদে আলফে সানী
হযরত শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীহযরত শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভীশায়খুল মুফাস্সিরীন হযরত ক্বাযী সানা উল্লাহ্ পানিপথীমোল্লা মুহাম্মদ মু‘ঈন কাশেফী আল হারভীতারা সবাই একমত যে,হুযূর (ﷺ)-এর নূরানী শরীরের ছায়া ছিলোনা।উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহ
১. ক্বামারুত তামাম ফী নফিয়্যিয যিল্লী ‘আন্সাইয়্যেদিল আনাম২. নফিয়্যুল ফায়ই ‘আম্মান ইস্তানারা বি নূরিহী কুল্লু শায়ই৩. সালাতুত্ সাফা ফী নূরিল মোস্তফা৪. হুদাল হায়রান ফী নফিয়্যিল ফায়ই ‘আন সাইয়্যিদিল আকওয়ান
৫. হাদাইক্বে বখশিশ সাহাবা, তাবে‘ঈন, মুজতাহিদ ইমামগণ, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, ওলামা, আউলিয়া ও সুফীগণ সবাই একমত যে, হুযূর-ই পুরনূর (ﷺ)-এর নূরানী শরীরের ছায়া ছিলোনা। কারণ তিনি ছিলেন নূর-ই মুবীন।
প্রিয় নবীজি রাসূলে পাক (ﷺ) ছায়া ছিলেনা ‘
