ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-পরবর্তী সময়ে দেশটির ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন দেশটির নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের ভেনেজুয়েলা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি হবে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ-এর একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও পরে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। এরপর তিনি বিরোধী জোটের আরেক নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়া-কে সমর্থন দেন। মাচাদোর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মুক্ত ভেনেজুয়েলা গড়তে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথমত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে শক্তিশালী মিত্রতা তৈরি করা হবে, যা আমেরিকাস অঞ্চলে অপরাধী চক্র ও অবৈধ কার্যক্রম ভেঙে দিতে সহায়তা করবে। দ্বিতীয়ত, ভেনেজুয়েলাকে একটি আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেসব নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনে একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়ে সফরে যান মাচাদো। এরপর তিনি আর ভেনেজুয়েলায় ফেরেননি। এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সংবাদ সম্মেলনে মাচাদো সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাচাদো ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হলেও দেশের ভেতরে তাঁর প্রতি প্রত্যাশিত মাত্রার সমর্থন ও সম্মান নেই।মাচাদো তাঁর প্রাপ্ত নোবেল পুরস্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন। এ বিষয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প এই সম্মানের যোগ্য এবং তিনি বিশ্ববাসীর সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।মাচাদো কবে দেশে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের অংশ হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মাদুরোকে তুলে নেওয়ারঘটনাকে‘অপহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশকরেনআন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানটি মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-এর মুক্তির দাবির মধ্য দিয়ে শুরু হয়।