মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছেআইসিসিকে। পাশাপাশি দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখারনির্দেশনাও দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।ক্রিকেট ঘিরে এই উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অন্যান্য খেলাতেও। বিশেষ করে আগামী মাসে ভারতের ১৩টি শহরে শুরু হতে যাওয়া প্রফেশনাল গলফ ট্যুর অব ইন্ডিয়াতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের কয়েকজন গলফারের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আদৌ ভারতে যাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।এই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব শুরু হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহে। কিন্তু বাংলাদেশি গলফারদের ভারতে প্রবেশ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি পাওয়া নিয়েও সংশয় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন দেশের গলফাররা। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেনজাতীয়
দলের তারকা গলফার জামাল হোসেন। তার সঙ্গে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মো. আকবর হোসেন ও বাদল হোসেনেরও।উল্লেখ্য, ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব বর্তমানে পিজিটিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশি গলফারদের ট্যুরে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা চললেও, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নন। অন্যদিকে, বাংলাদেশি গলফাররাও পরিস্থিতি বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান।জামাল, আকবর ও বাদল সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেলেও,এইটুর্নামেন্টেরজন্যকোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের মোট আটজন গলফারের।জামাল হোসেন মনে করেন,আয়োজ-
কদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে এবং দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা কমলে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, “টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো দেড় মাসের মতো সময় আছে। এর মধ্যে অনেক কিছুই বদলাতে পারে। আমরা পরিস্থিতি দেখছি। যদি অবস্থা খারাপ থাকে, তাহলে খেলব না। প্রয়োজনে পুরো বছরই মাঠের বাইরে থাকব। জীবনের নিরাপত্তাই সবার আগে—বেঁচে থাকলে সামনে আরও অনেক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ থাকবে।”তিনি আরও জানান, গলফারদের জন্য ক্রিকেটারদের মতো আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকে না। তার ভাষায়, “ক্রিকেট দলের জন্য আলাদা নিরাপত্তা থাকে, তবুও তারা শঙ্কার কারণে বিশ্বকাপে যাচ্ছে না। সেখানেআমাদের মতো গলফারদের জন্য কোনো বিশেষ নিরাপত্তা নেই। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হলে দায় নেবে কে? তাই সবকিছু পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। আপাতত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আমরা ভারতে যাব কি না।”