ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের মুখে চুপ করে থাকবে না। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এ কথা জানান জেনারেল আমির হাতামি।রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।হাতামি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো বৈরিতাপূর্ণ বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা বিনা প্রতিক্রিয়ায় সহ্য করবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রু যদি ভুল করে, ইরানের প্রতিক্রিয়া গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যার প্রেক্ষাপটে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিননেতানিয়াহুও এই বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা ঊর্ধ্বমুখী মূল্যবৃদ্ধি ও রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে বিক্ষোভ শুরু করে। দেশের বিভিন্ন শহরে এ ধরনের বিক্ষোভ দেখা গেছে, তবে তা ২০২২–২০২৩ সালের আন্দোলনের মতো বড় হয়নি। উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ইরানেররাস্তায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। এবারের বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে, যার মধ্যে ইরানের শত্রু দেশগুলোর নেতারাও বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন।গত রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যদি তারা অতীতে মানুষের উপর হামলা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে।”গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে অভিযোগ করেছে, তারা সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন এবং ইরানের জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।গত জুনে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় এক বিরল ইসরায়েলি হামলার পর সংঘর্ষের সূচনা হয়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রও ঘটনায় যুক্ত ছিল।
