রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্রস্তাবিত আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন দাবি করেছেন রিপাবলি-
কান দলের প্রভাবশালী সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের আওতায় চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশও পড়তে পারে।
প্রস্তাবিত “রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আইন” পাস হলে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত হবে। লিন্ডসি গ্রাহাম জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্প এই সরকারি ও বিরোধীদলীয় সমর্থনপ্রাপ্ত আইনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
এই আইনটি ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর রিচার্ডব্লুমেনথাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রাহামের মতে, এই আইন কার্যকর হলে সেই সব দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে, যারা কম দামে রুশ তেল কিনে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।তিনি আরও বলেন, চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশ
গুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চীন ও ভারত এখনও রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে। জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই কিনেছে চীন। একই সময়ে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, ব্রাজিল ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর তেল আমদানি বাড়ালেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা জোরদারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন লিন্ডসি গ্রাহাম।তিনি বলেন, ইউক্রেন শান্তির স্বার্থে নানা ছাড় দিচ্ছে, অথচ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কেবল কথার আশ্বাস দিচ্ছেন। এদিকে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনে ন্যাটো-ভুক্ত কোনো দেশের সেনা মোতায়েন তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
চীন-ভারতের পণ্যে ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসতে পারে: মার্কিন সিনেটর
