ইরানে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে, যার ফলে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করছে এবং তারা দেশের শত্রুদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। রাষ্ট্রবিরোধী তৎপর-
তায় জড়িতদের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।মোহসেনি-এজেই বলেন, কেউ যদি দাঙ্গা সৃষ্টি করে, অস্থিরতা ছড়ায় কিংবা এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে, তবে তাদের জন্য আর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, পরিস্থিতি এখন স্পষ্ট—এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইরানের শত্রুদের সহযোগিতার শামিল।বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ওইসরায়েলের পক্ষ থেকে একের পর এক বক্তব্য আসছে, যেগুলোকে ইরান ‘উসকানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে।এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানিবিক্ষোভ-
কারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণ এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণের এক গুরুত্ব
পূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে।এই বক্তব্যগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বও কড়া হুঁশিয়ারিউচ্চারণ করেছে। সামরিক একাডেমির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, শত্রুপক্ষ কোনো ভুল করলে তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ডজনখানেক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও সরকারিভাবে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সহিংসতায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দিলে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট গভীর সংকট সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।এই বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দোসর: ইরানের প্রধান বিচারপতি
