সম্প্রতি লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ একটি অস্বাভাবিক ও রহস্যময় সামরিক বিমান দেখা যাওয়ায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। আকাশে উড়ন্ত পেন্টা-
গনের মতো আকৃতির এই বিমানটি সাধারণ মানুষের চোখে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা। বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে।ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের অফাট বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ক্যাম্প স্প্রিংস এলাকায় যায়, যা রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি–এর খুব কাছেই অবস্থিত। সেখান থেকে বিমানটি সরাসরি লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। সাধারণত এ ধরনের বিমান জনসমক্ষে দেখা যায় না। তাই দেশের অভ্যন্তরে এমন উড্ডয়ন স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর কেড়ে নেয়।এই বিমানটি মূলত জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পারমাণবিক হামলার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও কার্যকরভাবে কাজ করার উপযোগী করে এর নকশা তৈরি। যুদ্ধ কিংবা বড় ধরনের সংকটের সময় সরকার পরিচালনা সচল রাখাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। সে কারণেই এর নাম ‘ডুমসডে প্লেন’। এই বিরল উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ওই বিমানে ছিলেন। তিনি ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ নামের একটি সফর কর্মসূচির অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসে যান। একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং সামরিক বাহিনীতে যোগদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা।
তবে কেন সাধারণ সরকারি বিমানের পরিবর্তে এই বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অতীতেও এ ধরনের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
‘ডুমসডে প্লেন’-এর প্রকৃত নাম বোয়িং ই৪বিনাইটওয়াচ। এটি একটি জাতীয় আকাশভিত্তিক অপারেশন কেন্দ্র। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এই বিমান।এই বিমানটি মূলত পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭। এতে বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গের আঘাত থেকে সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে মাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলেও এটি কার্যকর থাকে। বর্তমানে এ ধরনের মাত্র চারটি বিমান রয়েছে। সে কারণেই জন-
সমক্ষে এটি দেখা খুবই বিরল ঘটনা।যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ই–৪বি একটি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট দীর্ঘপাল্লার সামরিক বিমান। এটি আকাশেই জ্বালানি গ্রহণ করতে সক্ষম। বিমানের ভেতরে ছয়টি আলাদা অংশ রয়েছে—কমান্ড এলাকা, বৈঠক কক্ষ, ব্রিফিং কক্ষ, অপারেশন টিমের স্থান, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বিশ্রাম কক্ষ। এতে সর্বোচ্চ ১১১ জন অবস্থান করতে পারেন। তাঁদের মধ্যে যৌথ অপারেশন টিম, বিমান বাহিনীর ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা থাকেন। এই বিমানটি একটানা প্রায় ১২ ঘণ্টা জ্বালানি ছাড়াই উড়তে পারে। আকাশে জ্বালানি নিলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব। সব মিলিয়ে এটি কার্যত আকাশে ভাসমান একটি পেন্টাগন হিসেবেই কাজ করে।