ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এখনই কার্যকর না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে অনুরোধ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ওয়াশিংটন ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেনি; বরং কৌশলগত কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে।ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একপর্যায়ে ইসরায়েলকে জানিয়েছিল যে খুব শিগগিরই—এমনকি রাতের মধ্যেই—ইরানে হামলা হতে পারে। তবে পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।এর আগে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তার কড়া অবস্থানের পর ইরানে আটক এক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, অন্য কয়েকজন বন্দির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকেআন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে—সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে যেন ইরানকে আরও সময় দেওয়া হয় এবং সামরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলা হয়।এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, “এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। আশা করছি এই ধারা বজায় থাকবে।”এর মধ্যেই ইরান সরকার স্পষ্ট করেছে যে বিক্ষোভে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটকএরফান সোলতানির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি কারাদণ্ড—মৃত্যুদণ্ড নয়।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানে মৃত্যুদণ্ডকার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সহিংস দমন-
নীতিও ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে।এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র-
মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, অতীতের ভুল সিদ্ধান্ত যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। তার অভিযোগ, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন এক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে।উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দুই হাজার পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক
ভাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে স্বীকার করেছে।