ইরান জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান লক্ষ্য করে পাঠানোর আগেই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করেছে দেশটির নিরা-
পত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ হাজার বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং একইসঙ্গে একটি মোসাদ-প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি–এর বরাতেজানানো হয়, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ওই চক্রটি ভয়াবহ সহিংস হামলার পরিকল্পনা করছিল। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে বিদেশি সহায়তায় সহিংস রূপ নেয়।ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশে অভিযানের সময় দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাদের দাবি, এসব অস্ত্র গোপনে তেহরানে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। অভিযানে অন্তত দুইজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।একই সময়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা একটি “অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী” চিহ্নিত করে এর সদস্যদের গ্রেপ্তা-
রের তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই চক্রের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে হত্যা করা এবং বিক্ষোভ-
কে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ দেওয়া।বার্তা সংস্থা তাসনিম–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ–এর সহায়তায় নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় তারা একাধিক সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, অস্ত্র সংগ্রহের পর চক্রটির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।উদ্ধার করা আলা-
মতের মধ্যে একে–৪৭ রাইফেল, শটগান, বিপুল গোলা-
বারুদ এবং স্যাটেলাইট ফোনসহ আধুনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম ছিল। এসব ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।এ ছাড়া এই চক্রটি সামরিক ও পুলিশ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করে এবং সেগুলো বিতরণ করে শহরে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করে। অভিযানে আরও বহু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল।এই প্রেক্ষাপটে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও–এর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কথাও ইরানি গণমাধ্যমে উঠে আসে, যেখানে তিনি ইরানের রাস্তায় থাকা মানুষ ও মোসাদ এজেন্টদের নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।এছাড়া ফারসি ভাষায় ছড়িয়ে পড়া কিছু অনলাইন পোস্টে দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান, যেখানে বলা হয়—মোসাদ শুধু দূর থেকে নয়, সরাসরি মাঠেও সক্রিয়।