জাকের পার্টি থাকতে বাংলাদেশে কোনো’অপশক্তিকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে দেওয়া হবে না—এমন দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দের্দী। তিনি ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাইশরশিস্হ দরবার শরীফে আয়োজিত চার দিনব্যাপী বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনে এসব কথা বলেন।সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান বলেন,
বাংলাদেশ বিশ্বওলীর বাংলাদেশ, ওলি-আউলিয়াদের দেশ এবং তাঁর পীর কেবলাজান হুজুরের স্মৃতিধন্য ভূমি। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীনরা তাঁর খাজাবাবার দরবারে উপস্থিত থাকলেও, সেই ক্ষমতাকেন্দ্রিক ধারাকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষকে আদর্শবান ও নৈতিকভাবে পরিশুদ্ধ করার মহান দায়িত্ব জাকের পার্টির ওপর অর্পিত হয়েছে।তিনি বলেন, জাকের পার্টি কোনো ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল নয়। এটি আত্মশুদ্ধির দল, সমাজ পরিবর্তনের দল এবং আদর্শ মানুষ গড়ে তোলার দল। এই দল মানুষের হৃদয়কে আল্লাহমুখী করা, চরিত্র গঠন করা এবং সমাজে নৈতিকতা ও পবিত্রতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।জাকের পার্টির আদর্শ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,এই দল আল্লাহর বন্ধুদের সহব্বত ও মহব্বতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। এটি আদবের দল, বুদ্ধিকে পবিত্র করার দল, সত্যের পথে অবিচল থাকার দল, ঐক্য ও একতার দল। এটি জনশক্তিনির্ভর একটি সংগঠন, যার প্রধান কাজ হলো মানুষের ভেতরের পরিবর্তন আনা, উগ্রতা থেকে ফিরিয়ে আনা, বিনয় ও মানবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখে নির্বাচনের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে সামনে রেখে ভয়াবহ রক্তপাত ও সহিংসতার চক্রান্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে জাকের পার্টি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে—যতদিন তারা বাংলাদেশে থাকবে, ততদিন কোনো অপশক্তিকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সেই অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে।সম্মেলনের বিশেষ অতিথি, জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশের মানুষকে বারবার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪ বছর পরও যে অরাজকতা, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা যাচ্ছে, তার জন্য শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতাই দায়ী। তিনি বলেন, জাকের পার্টি একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন, এবং দেশের মানুষ এই আদর্শের পক্ষে সমর্থন জানাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও সম্মেলনে জাকের পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার বক্তব্য প্রদান করেন।উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্বওলী (রহঃ) কেবলাজান হুজুরের রওজা জিয়ারতের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো লাখো জাকেরান ও আশেকান ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মলম্বীরাও উপস্থিত ছিলেন গ্রহণ করেন। সম্মেলনের প্রতিটি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, পাশাপাশি সহ নফল ইবাদত, জিকির-আজকারসহ বিভিন্ন ইবাদত ও ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফজর নামাজের পর বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এবারের বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনের শেষ হয়।