চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর শীর্ষ পর্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান জেনারেল ঝাং ইউকসিয়া এবং আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে চীনের ক্ষমতাকেন্দ্রে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও নেতৃত্বের কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ঝাং ও লিউয়ের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং ‘দুর্নীতির’ অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিএলএ ডেইলি ইতোমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে ‘কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘সামরিক কমিশনকে অবমাননা’র মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে শূন্যতা ৭৫ বছর বয়সী জেনারেল ঝাং ইউক-
সিয়া ছিলেন চীনের সামরিক নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সাধারণত সাত সদস্যের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনে বর্তমানে কার্যত কেবল রাষ্ট্রপতি ও পার্টি প্রধান শি জিনপিং এবং জেনারেল ঝাং শেংমিন সক্রিয়ভাবে রয়েছেন। বাকি সদস্যদের বেশির- ভাগই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযান’-এর অংশ হিসেবে অপসারণের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি কমিশনের কার্যকারিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষ- করা।বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের একের পর এক অপসারণ পিএলএর ভেতরে সন্দেহ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে তাইওয়ান ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নেতৃত্বশূন্যতা ও ভীতির প্রভাব ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা এটাও বলছেন, চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শি জিনপিংয়ের নিয়ন্ত্রণ এখনো অত্যন্ত শক্ত। ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো বড় সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত ও রাজ-
নৈতিক বিবেচনার ওপরই নির্ভর করবে। ক্ষমতার কেন্দ্রী-
করণ আরও স্পষ্ট এই ঘটনাপ্রবাহ চীনের শাসন-
ব্যবস্থায় ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ স্তরেও শি জিনপিংয়ের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ যে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়েছে, তা এই অপসারণগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।