দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর তিনি আপাতত সেখানেই সময় কাটাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী তিনি আরও কিছু সময় যমুনায় থাকতে পারলেও আগেভাগেই স্থানত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে গণপূর্ত বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল ভবনটি পরিদর্শন করেছে এবং আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছে।
ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন। গুলশানে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছিলেন।
সহযোগীদের মতে, তিনি ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন এবং সাংগঠনিক কাজের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সময় কাটাচ্ছেন। অফিস-সংক্রান্ত কাজের বাইরে তিনি ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গেও সময় দিচ্ছেন।
তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও তিনি চিন্তাভাবনা করছেন। তার দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ধারণা—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—ভিত্তিক কার্যক্রম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
বিদেশ সফরের জন্যও তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। কোন সফরে সরাসরি অংশ নেবেন এবং কোনটিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন, সে বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসে জাপান সফরের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে, যদিও বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বর্তমানে তার ব্যস্ততা আগের তুলনায় কম। প্রতিদিন সকালে তিনি হাঁটাহাঁটি করেন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, আগ্রহী ব্যক্তিদের যেন সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করে অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন—কেউ জানতে চান অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে শুনতে আগ্রহী।
এদিকে তিনি তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট ইতোমধ্যে হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই পাসপোর্টটি জমা দেওয়া হয়। তার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আরও বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং অধ্যাপক ইউনূস তার নেতৃত্ব দেন। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নতুন সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।