ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে পড়ায় একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি যাত্রী নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না।
ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এসব যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী হোটেল থেকে চেক-আউট করেছেন। পরে ফ্লাইট বন্ধের খবর পেয়ে আবার আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নতুন করে হোটেল কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি খাবার ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবাও অনেকের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শনিবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল বহু যাত্রীর। কিন্তু ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তারা আটকা পড়েন। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনসের যাত্রীরাও।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার ঘটনার পর ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেয়। বাহরাইন, দুবাই ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের আকাশপথে বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও এসব গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়নি, যার কারণে সৌদি আরবে অবস্থানরত যাত্রীদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়।
মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, তারা যথাসময়ে হোটেল ছাড়লেও পরে ফিরে গিয়ে নতুন কক্ষ পাননি। এ অবস্থায় অনেকেই দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য নির্দিষ্ট হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত না হয়ে বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমানে কোনো বিশেষ পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি।
কয়েক হাজার যাত্রী কতদিন এই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন, তা নির্ভর করছে আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর। সবাই এখন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।