যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাম্প্রতিক বৃহৎ সামরিক অভিযানে একাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিমানগুলোর মধ্যে ছিল বি-২ স্টিলথ বোমারু, এফ-২২ র্যাপ্টর, এফ-৩৫ লাইটনিং II, এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকনসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা ২০২৬ অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেটের আনুমানিক শূন্য দশমিক ১ শতাংশের সমান।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু আকাশপথ নয়—সমন্বিত এই অভিযানে নৌ ও স্থল শক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ছিল।
মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে টানা উড্ডয়ন করে চারটি বি-২ বোমারু বিমান নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এসব বিমান প্রায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের জেডিএএম (JDAM) বোমা ব্যবহার করে। রক্ষণাবেক্ষণ, দীর্ঘপাল্লার উড্ডয়ন এবং ব্যবহৃত গোলাবারুদসহ শুধু বি-২ বহরের ব্যয়ই প্রায় ৩ কোটি ২ লাখ ডলারে পৌঁছায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, অভিযানের প্রাথমিক ধাপে এফ-১৮, এফ-১৬, এফ-২২ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সক্রিয় ভূমিকা রাখে। এসব বিমানের উড্ডয়ন ব্যয় ও গোলাবারুদের হিসাব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ ডলার।
এ ছাড়া ইএ-১৮জি গ্রোউলার, এ-১০সি থান্ডারবোল্টের মতো বিশেষায়িত বিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, নজরদারি বিমান এবং মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমানও ব্যবহৃত হয়। স্থলভিত্তিক হিমার্স রকেট ব্যবস্থাও অভিযানে যুক্ত ছিল। আকাশ ও স্থল সমন্বিত এই হামলার মোট ব্যয় প্রায় ৪২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড—এই অভিযানে অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট ডেস্ট্রয়ার ও অন্যান্য সহায়ক যুদ্ধজাহাজ পরিচালনার জন্য একদিনেই প্রায় দেড় কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মার্কিন নৌবাহিনী টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো না হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রায় ২০০টির মতো টমাহক ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।
সব মিলিয়ে অভিযানের প্রথম দিনেই ব্যয় হয়েছে শত কোটি ডলারের বেশি, যা আধুনিক যুদ্ধের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয়ের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।