মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইসরায়েলের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করে ককেশাস অঞ্চলের দেশ আজারবাইজান। দেশটির রাজধানী বাকু থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসি হয়ে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরনগরী জায়হানে পৌঁছে। সেখান থেকে সমুদ্রপথে সেই তেল ইসরায়েলে রপ্তানি করা হয়।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলাকালে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই অভিযানে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নেয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ মার্চ ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ব্যাপক। ধারণা করা হয়, ইউরোপের ব্যবহৃত জেট জ্বালানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয়। পাশাপাশি সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর তেমন নির্ভরশীল নয়, তবুও বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
লন্ডনভিত্তিক একাধিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক উপদেষ্টা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে শত্রুপক্ষের জ্বালানি অবকাঠামো ও পাইপলাইন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে যে পাইপলাইন দিয়ে আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে তেল সরবরাহ করা হয়, সেটি ঝুঁকির মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাকু-তিবিলিসি-জায়হান (বিটিসি) পাইপলাইন, যা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের মালিকানাধীন, ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন হিসেবে বিবেচিত হয়। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যখন “শত্রুর তেলের লাইন” লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলে, তখন সাধারণত এই পাইপলাইনকেই ইঙ্গিত করা হয়। ভৌগোলিকভাবে এটি ইরানের নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েল আজারবাইজানের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে ইরান ও তেহরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং সম্প্রতি এসব অভিযানের পরিমাণ বেড়েছে। এ কারণে ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চলমান উত্তেজনা শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
আজারবাইজান থেকে ইসরায়েলে জ্বালানি তেল নেওয়া বন্ধের হুমকি ইরানের
