ওয়াশিংটন, শুক্রবার: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি লকহিড মার্টিন এবং আরটিএক্স (RTX)–এর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মূলত চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত দ্রুত পূরণ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করাই এই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টরসহ উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসন অস্ত্র মজুত পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব বিবেচনা করছে বলেও জানা গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান কতদিন স্থায়ী হয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়—তার ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পেও নতুন চাপ ও চাহিদা তৈরি করেছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।