মাঝসমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেলের কিছু চালান কেনার জন্য ভারতকে অস্থায়ীভাবে ৩০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ ছাড় ঘোষণা করে। মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই অস্থায়ী ছাড় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে কোনো বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে দেবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিকে চাপের মুখে ফেলতে চেষ্টা করছে, তা মোকাবিলাতেও এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পিত ও স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ছাড়ের মাধ্যমে রাশিয়া বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে না। কারণ, অনুমতিটি কেবল সেই তেলের চালানের জন্য প্রযোজ্য যেগুলো ইতিমধ্যে সমুদ্রে আটকে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে ভারতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির মজুত দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সাধারণত ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। কিন্তু ওই পথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার তেলের দিকে ঝুঁকছে ভারত।
এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর দেশটির জ্বালানি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে রুশ তেল কেনাবেচা সীমিত হয়ে যায় এবং অনেক ক্রেতাকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হয়।
রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। এ কারণে এতদিন নয়াদিল্লিকে রুশ তেল কেনা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে আপাতত সেই চাপ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।