ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ বোমা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ২০ হাজারের বেশি বোমা সরবরাহ করা হতে পারে এবং এর সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ হাজার পাউন্ড ওজনের প্রায় ১২ হাজার বোমা, ৫০০ পাউন্ড ওজনের প্রায় ১০ হাজার বোমা এবং আরও কয়েক হাজার ছোট আকারের বোমা সরবরাহের ব্যবস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের জরুরি ধারা ব্যবহার করে কংগ্রেসের প্রচলিত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে অস্ত্র বিক্রির পথ তৈরি করা হয়েছে। অতীতেও প্রশাসন কয়েকবার কংগ্রেসের পূর্ণ পর্যালোচনার আগে সামরিক সহায়তা বা অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে তখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। চলতি বছরের শুরুতেও কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলকে উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, যার বড় একটি অংশ মার্কিন তৈরি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতির ভেতরেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য মনে করছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস এক বিবৃতিতে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের ঘোষিত যুদ্ধ–সংক্রান্ত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে, যার ফলে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
