মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ ধরনের ভারী বোমারু বিমানে শক্তিশালী বোমা ও অস্ত্র মজুতের কার্যক্রম দেখা গেছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই প্রস্তুতির লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা—যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ করা হয় বলে মনে করা হয়। এমন ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সাধারণত শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ ধরনের বোমা ব্যবহার করা হয়, যা মাটির গভীরে থাকা স্থাপনাতেও আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে একটি বি-১ বোমারু বিমানের অস্ত্র বহনের অংশ থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব বিমান আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে এবং অনেক দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শত শত মাইল দূর থেকেও নিক্ষেপ করা সম্ভব, ফলে বিমানগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে শত্রুর বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে থেকেই হামলা চালানোর সুযোগ দেয়।
একই সঙ্গে ওই ঘাঁটিতে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ বা জেডিএএম নামের স্মার্ট বোমা সংরক্ষণের কথাও জানা গেছে। তবে এই ধরনের বোমা নিক্ষেপ করতে হলে বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর তুলনামূলক কাছাকাছি যেতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করা হয়, তবে বোমারু বিমানকে ইরানের আকাশসীমার অনেক ভেতর পর্যন্ত প্রবেশ করতে হতে পারে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো মনে করছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা সম্ভব হয়েছে।
আরেকটি দিক হলো, সামরিক ঘাঁটির বাইরে থেকেও এসব যুদ্ধবিমানের প্রস্তুতি দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এর মাধ্যমে একটি কৌশলগত বার্তাও দেওয়া হতে পারে—যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।