কেশম দ্বীপ বর্তমানে মুক্তবাণিজ্য ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এর ক্রমবর্ধমান সামরিক গুরুত্ব এটিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই দ্বীপকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের “ডুবানো যায় না এমন বিমানবাহী রণতরী” হিসেবে উল্লেখ করেন, একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত এই দ্বীপটি উন্মুক্ত ভূতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে পর্যটকদের আকর্ষণ করত, যেখানে লবণগুহা, অদ্ভুত শিলা গঠন ও সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল প্রধান আকর্ষণ, কিন্তু বর্তমানে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য নির্মিত তথাকথিত “মিসাইল সিটি”, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত শুরু হওয়ার পর দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এবং এটি পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে সামরিক অগ্রবর্তী ঘাঁটিতে রূপ নেয়, প্রায় ১,৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত যেখান থেকে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথ কার্যত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর, দ্বীপটিতে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশ সুন্নি মুসলিম এবং তারা বান্দারি উপভাষায় কথা বলেন, তাদের জীবনধারা এখনো সমুদ্রকেন্দ্রিক এবং তারা ঐতিহ্যবাহী ‘নওরোজ সাইয়াদি’ উৎসবে মাছ ধরা বন্ধ রেখে সমুদ্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দ্বীপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে আশপাশের বহু এলাকায় পানির সংকট সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী আঞ্চলিক পর্যায়ে জবাবমূলক পদক্ষেপ নেয়, কেশম দ্বীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ সামরিক নেটওয়ার্ক, যেখানে দ্রুতগতির নৌযান, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, এই অবকাঠামোর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ বা অচল করে দেওয়া, সাম্প্রতিক উত্তেজনায় জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই কৌশলগত বাস্তবতারই প্রতিফলন, ইতিহাসের দিক থেকেও কেশম দ্বীপ অত্যন্ত সমৃদ্ধ, প্রাচীন গ্রিক, ইসলামী ভূগোলবিদ, পর্তুগিজ, ওসমানীয় ও ব্রিটিশ শক্তির উপস্থিতি এই দ্বীপকে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, এখানে দুর্গ নির্মাণ, সামরিক সংঘর্ষ এবং নৌঘাঁটি স্থাপনের মতো বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে, তবুও সামরিকীকরণের মাঝেও দ্বীপটির প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অটুট রয়েছে, হারা ম্যানগ্রোভ বন এখনো পরিযায়ী পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত কেশম জিওপার্ক এই অঞ্চলের অনন্য ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে, পাশাপাশি স্টারস ভ্যালি, নামাকদান লবণ গুহা এবং চাহকুহ ক্যানিয়নের মতো স্থানগুলো দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, সব মিলিয়ে কেশম দ্বীপ আজ একদিকে প্রাকৃতিক বিস্ময় আর অন্যদিকে সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে ইতিহাস, ভূগোল ও সমসাময়িক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে।
কেশম দ্বীপ: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ভূতাত্ত্বিক বিস্ময়
You Might Also Like
Sign Up For Daily Newsletter
Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Create an Amazing Newspaper
Discover thousands of options, easy to customize layouts, one-click to import demo and much more.
Learn More