গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগে শুরু হয়ে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকে এবং এতে জাহাজে অবস্থানরত বহু নাবিক ধোঁয়ার প্রভাবে শ্বাসকষ্টে ভুগে অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায় যে, আগুনটি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও এর প্রভাব জাহাজের অভ্যন্তরে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করেছে, যদিও মার্কিন নৌবাহিনী প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল যে এটি কোনো শত্রু আক্রমণের ফল নয় এবং আহতদের অবস্থা গুরুতর নয়, তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে জাহাজটির প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সদস্যের জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের কারণে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের নির্ধারিত ঘুমানোর স্থান হারিয়ে ফেলেছেন এবং বাধ্য হয়ে ডাইনিং এলাকা বা মেঝেতে রাত কাটাচ্ছেন, একই সঙ্গে লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে, জাহাজটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও এর সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে দীর্ঘদিনের মোতায়েনের কারণে নানা প্রযুক্তিগত সমস্যাও সামনে এসেছে, বিশেষ করে শৌচাগার ও প্লাম্বিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অতীতে একাধিকবার বাইরের সহায়তা নিতে হয়েছে, এমনকি চলমান মোতায়েনকালেও একাধিকবার এই ধরনের সমস্যার সমাধানে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে, প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রণতরীটি গত বছরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগর, পরে ক্যারিবীয় অঞ্চল হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে, বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই মোতায়েন আগামী এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়বে, ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নাবিকদের জীবনযাত্রার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
